নির্বাচনসারাদেশ

বিএনপি’র তিন প্রার্থীর কে হচ্ছেন ধানের চাষী!

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর) আসনের সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বিএনপি’র নেতা কর্মীদের মাঝে শুরু হয়েছে নির্বাচনী ঝড়। আর এই নির্বাচনী ঝড়ে কে হচ্ছেন ধানের চাষী কৌতুহল নিয়ে কেন্দ্রের দিকে চেয়ে আছেন নেতা কর্মী সমর্থকরা।

পাবনা-৩ আসনে বিএনপি’র তিনজন মনোনয়ন প্রাপ্তরা হলেন- চাটমোহর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সাংসদ কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) ফকরুল আযম ও চাটমোহর উপজেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক হাসাদুল ইসলাম হীরা।

প্রার্থী হীরার মনোনয়ন জেলা রিটার্নিং অফিস থেকে বাতিল হওয়ার পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়।

এই তিন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে ফকরুল আযম পাবনা-৩ এলাকায় একেবারেই নতুন। গত পাঁচ বছরে এই পাবনা-৩ আসনে তার কোন পদচারনার খবর মিলেনি কিংবা দলীয় কোন কর্মসূচীতে তার কোন অংশ গ্রহনের কথা শোনা যায়নি। তবে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি জোড় তদ্বীর লবিং করে মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন গুঞ্জন নেতা কর্মীদের মুখে শোনা যায়।

তবে দলের দূর্দীনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীগুলো স্থিমিত আকারে হলেও নিয়মিত পালন করেছেন এবং নেতা কর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেন কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ও হাসাদুল ইসলাম হীরা। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে একজনকে দলীয় মনোনয়ন দিলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতা কর্মীরা।

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বিএনপি’র অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সাবেক সংসদ আলহাজ¦ কে,এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পাবনা-৩ আসনে বিএনপি থেকে তিন জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে । কিছু প্রার্থীর সমর্থকরা এলাকায় প্রচার করে বলছেন তার নেতার মনোনয়ন কনফার্ম হয়ে গেছে।

আজ দল যদি এমন কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয় যাদের নুন্যতম কোন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই এবং গত ৫ বছরে একটি বারও দলীয় নেতা কর্মীদের খোঁজ খবর না নিয়ে ঢাকায় বসে থেকেছেন। তার পক্ষে ধানের শীষের ভোট চাইতে গেলে জনগন কোন ভাবেই মেনে নেবে না। এ আসনে দলকে জয়ী করতে যোগ্য ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিলে মানুষ বিএনপি’র প্রার্থীকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জহুরুল ইসলাম বকুল বলেন, দলকে ভালবাসি বলে কখনও দলের সাথে বেঈমানি করিনি। দলের বাইরে কখনও কোন কিছুই ভাবিনি। ১৯৭৮ সালে যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছিলাম।

এরপর ১৯৮৯ সালে এই উপজেলার সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহন করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সুনামের সাথেই দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই উপজেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার দল বিএনপি যখন নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখন অনেকেই প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে চাইছেন।

এই প্রার্থীদের দু’একজন কোন দিনই এলাকায় এসে কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেনি, বা কোন রাজনৈতিক নেতা কর্মীর সাথেও যোগাযোগ রাখেনি। এই সব ব্যক্তিকে দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে জনগনের দোড় গোড়ায় গিয়ে ভোট চাইতে গেলে আমাদের অনেক কথা শুনতে হবে। দলকে জয় উপহার দিতে ভীষন বেগ পেতে হবে আমাদের।

Close
Close