জুলাই 20, 2024

তিস্তার পানি প্রত্যাহারের খবর ‘অত্যন্ত উদ্বেগের’

1 min read

তিস্তায় নতুন দুটি খাল কেটে পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। অভিন্ন নদীটির পানি প্রত্যাহারের খবরটি ‘অত্যন্ত উদ্বেগের’ বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। এ বিষয়ে যৌথ নদী কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে ভারতের কাছে তথ্য চাইবে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের পানি সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত অংশীজনদের পরামর্শক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই আলোচনার আয়োজন করে।

ওই আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা থেকে পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনার বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে বাংলাদেশে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এটা আমাদের নজরে এসেছে। কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছ থেকে কিছু জানতে পারিনি। আমি যৌথ নদী কমিশনের সদস্যকে ভারতীয় সদস্যের কাছে চিঠি দিতে বলেছি। কারণ, আমরা চাই, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বলুক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যটি সত্য কি না, তা জানার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বাংলাদেশ। এ কারণে ভারত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য পাওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করব না।’

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবেন না উল্লেখ করে জাহিদ ফারুক বলেন, ‘আমরা তাদের একটি চিঠি দিচ্ছি। চিঠিটার উত্তর এলে বুঝতে পারব, সত্যি তারা পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিচ্ছে, নাকি নিচ্ছে না।’

পানি প্রত্যাহারের বিষয়টি সত্য হলে তা উদ্বেগের হবে কি না, জানতে চাইলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে অবশ্যই সেটা উদ্বেগের বিষয় হবে। কিন্তু আমরা সব সময় আমাদের বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার নীতিতে চলি। সেটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের তো বিকল্প আছে। কী বিকল্প আছে, সেটা তো আপনাদের (সাংবাদিকদের) বলব না।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে পরামর্শক সভায় দুই নিকট প্রতিবেশী দেশের পানি বণ্টন নিয়েই কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন নিকট প্রতিবেশী হিসেবে সুপ্রতিবেশীমূলক মনোভাব নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রাপ্য বুঝে নেওয়া ভালো।

জাহিদ ফারুক বলেন, ‘ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী বাংলাদেশে আসবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। বাংলাদেশে এলে তাঁকে আমি হেলিকপ্টারে করে ঘুরে দেখানোর কথা বলেছি। আপনি (ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী) তখন দেখতে পাবেন, ফারাক্কাসহ বিভিন্ন ব্যারাজের প্রভাবে বাংলাদেশে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী আপনি পানি প্রত্যাহার করতে পারেন না, আপনি পানি ব্যবহার করতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি, পানি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে সমাধানের বিকল্প আমাদের সামনে আছে, যেভাবে আমরা সমুদ্রসীমার বিরোধের নিষ্পত্তি করেছি। কিন্তু আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিই।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের প্রস্তুতিও চলছে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে ভারতীয় পক্ষকে বৈঠক অনুষ্ঠানের আহ্বান জানানো হয়েছে। আমাদের প্রস্তাবে তারা মৌখিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক দিন-তারিখ নির্ধারণ হলে আপনারা জানতে পারবেন।’

প্রসঙ্গত, ভারতীয় গণমাধ্যম টেলিগ্রাফ–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের আওতায় আরও দুটি খাল খননের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সেচ বিভাগ প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। ৪ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার আরও কৃষিজমিকে সেচের আওতায় আনতে পশ্চিমবঙ্গ এ উদ্যোগ নিয়েছে। পানিবিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন খাল খননের ফলে তিস্তা ঘিরে পানিসংকট ঘনীভূত হবে।