সোশ্যাল মিডিয়া

‘গণতন্ত্র তখনই সুন্দর, যখন সরকার চাপে থাকে’

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ২৩ দিন বাকি। ইতোমধ্যে গলির চায়ের দোকান থেকে সুশীল সমাজের বৈঠকখানায় জমে উঠেছে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা- পর্যালোচনা। আজ দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল পাঠকের জন্য।

”এই নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এটা দুই জোটের উপরই পরিবর্তনের চাপ তৈরি করছে। দেখার বিষয় এই চাপের জবাব দুই জোট কিভাবে দেয়। তারা এই চাপকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে যেমনে চলেছি তেমনেই চলবো নীতিতে আগাতে পারেন। অথবা এই চাপের উত্তরে তাদের ভবিষ্যত কর্মপন্থাকে ঢেলে সাজাতে পারেন ।

তো জনমতের চাপ আওয়ামী লীগকে কি বলছে? আওয়ামীজোটকে বলছে, বিরোধী মত দমন, বিনা বিচারে হত্যা, গুম, বিচারালয়ে প্রভাব তৈরি করা এইসব বদলাতে হবে। মানুষকে স্বাধীনভাবে তার কথা বলতে দিতে হবে। বিরোধী মত বা পথের রাজনৈতিক কর্মী, স্বাধীন শিল্পী বা সংবাদপত্র কর্মী- এদেরকে সম্মান এবং নিরাপত্তার সাথে বাঁচতে দিতে হবে।

বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টকে বলছে, জঙ্গীবাদ, গ্রেনেড হামলা, বিনা বিচারে হত্যা এইসব আর চলবে না। বঙ্গবন্ধুর মতো জাতীয় নায়কদের সম্মান দিতে হবে। এমন কি তাদেরকে সুশাসন এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রয়েজনীয়তাও উপলব্ধি করতে বলছে।

এছাড়া ডা: জাফরুল্লাহর পাঁচ দফা থেকে দেখছি তারা দেশের শিক্ষিত বেকার, কৃষক ভাইয়েরা ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে ভাবার মতো চাপও বোধ করছে। কোটা সংস্কার নিয়েও ভাবছে তারা।

এই পরিবর্তনের চাপ আশাব্যঞ্জক। যে জোটই ক্ষমতায় আসুক তাদেরকে এই পরিবর্তনের চাপ মাথায় নিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে। কে না জানে গণতন্ত্র তখনই সুন্দর যখন সরকার চাপে থাকে। নাহলে সরকার যন্ত্রটাই এমন, সে চাপে না থাকলে, নাগরিকদের চাপে রাখবে।

সুতরাং প্রিয় নাগরিকগণ, আপনি যে দলেরই সমর্থক হোন, চাপ অব্যাহত রাখুন যাতে আপনার দলের কাছে মানুষ আরো ভালো সেবা পেতে পারে। আপনি চাপ অব্যাহত রাখুন যাতে আমাদের ভোটটা আমরা নিরাপদে দিতে পারি। এবং তারপর যে জোটই ক্ষমতায় আসুক তারা যেনো এই চাপটা মাথায় নিয়ে দেশ চালায়।”

Close
Close