বাদাম বিক্রেতা থেকে যেভাবে হয়ে উঠলেন বাদশা ট্যাটু!

আপত্তিকর, অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে সম্প্রতি নিউমার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তরিকুল ইসলাম বাদশা ওরফে বাদশা ট্যাটু নামক এক যুবককে।

মূলত বিদেশী মডেল, অভিনয় শিল্পী ও খেলোয়ারদের শরীরে আঁকা ট্যাটু দেখেই আকৃষ্ট হন তরুণ-তরুণীরা। হুবুহু ওইসব খেলোয়ার, অভিনয় শিল্পীদের মতো ট্যাটু করাতে চান। প্রতি স্কয়ার ইঞ্চি হিসেবে ট্যাটুর দরদাম ঠিক করা হয়। জায়গা ভেদে স্কয়ার ইঞ্চির দাম এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। এমনকি পুরো শরীরজুড়ে ট্যাটু করতে গেলে লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।

ট্যাটু শিল্পীরা জানান, অনেকেই বলিউডের নায়ক অজয় দেবগনের মতো দেবতা শিবের ছবি, হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হাতে জুড়ে বিভিন্ন ট্যাটু আঁকতে চান।তরুণীরা তাদের স্পর্শকাতর স্থানেও ট্যাটু আঁকাতে পছন্দ করেন।

গুলশান-২ এলাকার একটি ট্যাটু স্টুডিওতে গিয়ে দেখা গেছে অভ্যর্থনা কক্ষে বসে আছেন তিন জন। দুই তরুণী ও এক তরুণ। তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই তরুণী জানান, পিঠে এবং হাতে ট্যাটু আঁকাবেন তারা।

মৌমিতা নুর নামে তরুণী জানান, বলিউড ‘কুইন’ খ্যাত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের ট্যাটুতে মুগ্ধ তিনি। কঙ্গনার ঘাড়ে আঁকা দুটি ডানা, তলোয়ার ও মুকুট তাকে মুগ্ধ করেছে। সেটাই আঁকাতে চান তিনি। সঙ্গী তরুণ ড্রাগনের ছবি আঁকাবেন হাতে। স্টুডিওতে কাজ করছেন দুই জন। এক-এক করে ভেতরের কক্ষে ডেকে নেয়া হচ্ছিলো তাদের।

কথা হয় স্টুডিও’র কর্মী আরমানের সঙ্গে। তিনি জানান, এখানে তিন হাজার থেকে বিভিন্ন রেটে কাজ করা হয়। তরুণীরা পিঠে, বুকে, কোমড়ে ট্যাটু করাতে পছন্দ করেন।

নিউমার্কেট এলাকার বনলতা মার্কেটের তৃতীয় তলা থেকে ট্যাটু বাদশাকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে এ সংক্রান্ত নানা তথ্য পেয়েছে সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট। জিজ্ঞাসাবাদে তরিকুল ইসলাম বাদশা জানিয়েছে, একসময় ঢাকায় বাদাম বিক্রি করতো বাদশা। হঠাৎ করেই তার নজর পড়ে ট্যাটুর দিকে। কয়েক বছর আগে চায়না গিয়ে ট্যাটুর কাজ শিখে বাদশা।

তারপর নিউমার্কেট এলাকায় ট্যাটু রিমুভ সেন্টার এন্ড আর্ট নামে পার্লার গড়ে তোলে। তার বেশিরভাগ গ্রাহকই মেয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজের এক শ্রেণির ছাত্রী ও পুরান ঢাকার মেয়েরাই তার পার্লারে বেশি যেতো। পুরনো ট্যাটু রিমুভ, নতুন ট্যাটু আঁকা ছাড়াও কৃত্রিম তিল তৈরি করতো বাদশা।

এক হাজার টাকার বিনিময়ে ঠোঁটের নিচে বা উপরে তিল তৈরি করে দিতো। গত ১৩ই এপ্রিল তার পার্লারে যায় পাঁচ-ছয় তরুণী। তাদের একজনের কোমড়ের নিচে প্রজাপতি এঁকে দেয় বাদশা। এসময় ওই তরুণী ও তার সঙ্গী তরুণী ভিডিও ধারণ করছিলো।

এক পর্যায়ে তাদের সম্মতি নিয়ে নিজের মোবাইলফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করে বাদশা। পরবর্তীতে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে অল্প সময়েই মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। এভাবে অশ্লীলতা ছড়ানোর দায়ে পর্নোগ্রাফি আইনে বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ডিভিশনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম।

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এই বিভাগের পোস্ট

Back to top button
Close