ছিনতাইকারী-ডাকাত থেকেও ভয়ঙ্কর তারা

প্রথমে দু-একটা কথা বলে আলোচনা শুরু। পরিচয়পর্ব শেষ করে শুরু হয় সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলা। তারপর সুখ-দুঃখের কথা শেয়ার করা। সম্পর্কটা আরেকটু গভীর হলে আলাপকারীর কাছে থাকা খাবার চেখে বিশ্বাস অর্জন। এরপর আলাপকারীকে নিজের কাছে থাকা খাবার খাওয়ানোর পালা। এভাবে কথাবার্তার একপর্যায়ে যখন আলাপকারী ঘুমিয়ে যায় তখন তার মোবাইল, ঘড়ি আর নগদ টাকা নিয়ে সটকে পড়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা।

এখানেই শেষ নয়। অজ্ঞান হওয়ার ৩-৪ ঘণ্টার পর জ্ঞান ফেরে অনেকের। তবে না ফেরার সংখ্যাটাই বেশি। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়াদের মধ্যে একজন কামরাঙ্গীর চরের রিকশাচালক আল-আমিন।

২০১৮ সালের শেষ দিকে আল-আমিন অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর মারা যান। কিন্তু ‘ঝামেলা এড়াতে’ তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি। ‘হত্যাকারী’ অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বেঁচে যায়।

আল-আমিনের মতো গত এক বছরে তিন শতাধিক মানুষ অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অনেকে মারাও গেছেন। কিন্তু অধিকাংশই ‘ঝামেলা এড়াতে’ মামলা করেন না।

জাগো নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ছে সাধারণ মানুষ। তবে মামলা না করা এবং মামলা করলেও দুর্বল হওয়ার কারণে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কারাগার থেকে দ্রুত বের হয়ে নতুন করে একই কাজে লিপ্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অভিজ্ঞতা পুলিশের অন্য সব ইউনিট থেকে অনেক বেশি।

প্রতিবছরই রমজান মাস এবং কোরবানির ঈদের সময় উৎপাত বাড়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের। এত গ্রেফতারের পর কীভাবে তারা একইভাবে কাজ চালাতে থাকে? উত্তরে ডিবির একজন সিনিয়র এএসপি সমমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সাধারণ লঞ্চ-বাস ও রেলের যাত্রীদের টার্গেট করে। এসব যানবাহনে সাধারণত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা চলাচল করে।

অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়া ব্যক্তিরা সুস্থ হয়ে থানায় মামলা না করেই বাড়ি চলে যান। তাদের স্বজনেরাও মামলা করেন না। আর এতে আসামিদের ধরে গ্রেফতার দেখানো মুশকিল হয় পুলিশের।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেসব ক্ষেত্রে মামলা করা একান্তই দরকার, তখন পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এছাড়াও অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের ধরার পর পুলিশ সাধারণত প্রতারণার মামলা দেয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী পাওয়া যায় না, পুলিশও ব্যস্ত থাকে তাই তাদের বিরুদ্ধে তেমন তদন্তও হয় না।

ওই কর্মকর্তা (এএসপি) জাগো নিউজকে বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে প্রথমেই আক্রান্তরা ৪-৫ ঘণ্টা অচেতন থাকেন, এরপর কেউ বাঁচেন, কেউ মারা যান। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ না করায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করতে পারি না। মামলা হালকা হওয়ায় আদালতে গিয়ে খুব সহজেই জামিনে বেরিয়ে পড়ছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা।’

ডিবি পশ্চিম বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের আগস্টে অজ্ঞান পার্টির ৫৭ জন সদস্যকে আটক করেছিল তারা। তবে এদের মধ্যে সবাই সাত দিনের মধ্যে জামিন নিয়ে পুনরায় একই অপরাধ সংগঠন করছে।

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে অজ্ঞান পার্টির সদস্য থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘ঢাকায় একটা চক্রের অধীনে ১০-১২ জন কাজ করেছি। আমাদের বলা হয়েছে যদি আমরা গ্রেফতার হই তাহলে ৭-১০ দিন দিনের মধ্যে আমাদের জামিন নিয়ে দেবেন উকিলরা। আমরা উকিলদের চিনি না। আমাদের নির্দেশনা দেয়া থাকে যে, গ্রেফতারের দিন আদালতে অনেক সাংবাদিক ও মিডিয়া থাকে। তাই গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে জামিন করানো হবে না। ৭-১০ দিন পর তারাই নিজ খরচে জামিন করাবে। আদালতে উকিল আমাদের ছিঁচকে চোর বলে দাবি করে। দু-একদিন পর এমনিতেই জামিন পাওয়া যায়।’

কীভাবে টার্গেট নির্ধারণ করেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব জায়গায় “অপারেশন” চালাই সেখানে শুধুমাত্র মধ্যবিত্ত লোকেরা থাকে। আমরা প্রথমে তাদের আশপাশে গিয়ে তাদের কথাবার্তা শুনি। তারা যদি কোনো বিষয় নিয়ে বিরক্ত থাকে সে বিষয়টি জানার চেষ্টা করি। এরপর সুবিধামতো তাদের সঙ্গে গিয়ে বসে যাই।’

প্রথমে টার্গেটের পর সাম্প্রতিক বিষয়াদি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করি যেমন-সড়ক দুর্ঘটনা, ধর্ষণ ইত্যাদির সংবাদ নিয়ে। এরপর তাদের সমস্যার কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করি। যেমন-কেউ বিদ্যুতের বিল নিয়ে শঙ্কিত, কেউ গ্যাসের বিল নিয়ে-এসব বিষয়ে তাদের সঙ্গে তাল মেলানোর পর তাদের কাছ থেকে পানি কিংবা কোনো খাবার চাই। তাদের পানি অথবা বিস্কুট খেয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করি।
এরপর আমরা আমাদের কাছে থাকা খাবার তাকে অফার করি। প্রায় ক্ষেত্রেই তারা আমাদের খাবার গ্রহণ করে। এরপর কথা বলতে বলতে তারা ঘুমিয়ে যায়। আমরা কৌশলে মোবাইল, মানিব্যাগ নিয়ে বাস থামিয়ে নেমে যাই। ট্রেনে থাকলে অন্য বগিতে যাই, পরবর্তী স্টেশনে নেমে যাই।’

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহা-পরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা মানুষের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে তাদের সর্বস্ব লুটে নেয়। তাদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে সারাদেশে পুলিশের সব ইউনিটকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে তৎপর থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে।’

মামলার দুর্বলতার কারণে আসামিদের জামিন নিয়ে বের হওয়া প্রসেঙ্গ তিনি বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টি দ্বারা কেউ আক্রান্ত হলে পুলিশ সেই ঘটনায় মামলা নেয়। মামলায় তাদের মালামাল লুটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে পরবর্তীতে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি মারা যান তাহলে তদন্তসাপেক্ষে পুলিশ সেই মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করে তদন্ত করবে।’

অজ্ঞান পার্টির দুই গ্রুপ

বাংলাদেশে অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি গ্রুপ বিচ্ছিন্নভাবে একজনকে টার্গেট করে কাজ করে। ঢাকায় এমন ৮-১০ টি চক্র রয়েছে। অপর গ্রুপটি সংঘবদ্ধভাবে গৃহকর্মী বা ভাড়াটিয়া সেজে অন্যের বাড়িতে গিয়ে কয়েক মাস থাকে। এরপর তাদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নেয়। এই গ্রুপের অধিকাংশই নারী। এরা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তাদের খপ্পরে পড়া অধিকাংশই মারা গেছেন। এদের একটি চক্র ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট ঢাকার ডেমরায় ভাড়াটে সেজে বাড়িতে ঢুকে আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সাহেরা বেগমকে হত্যা করে।

১২ এপ্রিল এই চক্রটিরস সাতজন নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির টিম লিডার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল হাসান ফিরোজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই গ্রুপটি অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাসাভাড়ার কথা বলে বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে বাড়িওয়ালাদের টার্গেট করে চেতনানাশক ঘুমের ট্যাবলেট দই, শরবত ইত্যাদির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। পরে তারা অজ্ঞান হয়ে গেলে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়।’

অধিকাংশ বরিশাল ও উপকূলীয় অঞ্চলের

ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া অজ্ঞান পার্টির পেশাদার ও মৌসুমি চক্রের সদস্যদের অধিকাংশেরই বাড়ি বৃহত্তর বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকার কোনো না কোনো গ্রামে। এর সঠিক কারণ না জানা থাকলেও ২০১৮ সালে পাঁচ সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেফতার করে তাদের রিমান্ডে নিয়ে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি।

উত্তরে তারা জানায়, ২০১০ সালের দিকে বাংলাদেশে অজ্ঞান পার্টির একটি চক্রের মূলহোতা ছিল ‘কালা বাবুল’ নামে এক ব্যক্তি। সে বরিশালে ছিল। তার চক্রের সবাইকে বরিশাল থেকে ঢাকায় আনা হয়। তারাই এখন এক-একটি চক্রের হোতা। তাই বরিশালের লোকজনের সংখ্যা বেশি।

পুলিশি রিমান্ডে একজন বলেন, বরিশাল একাধিকবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। এতে অনেকেই নিঃস্ব হয়। দুর্যোগের সময়গুলোতে হাতে কাজ না থাকায় রাজধানীতে কাজের সন্ধানে ছুটে এসে ছোটখাটো চুরি-ছিনতাই শুরু করে তারা। জেলখানায় গিয়ে অপরাধীদের সঙ্গে মিলে তারা যোগ দেয় অজ্ঞান পার্টিতে। এছাড়া বরিশালের মানুষের বিশ্বস্ততা, সাহসিকতা ও সংগ্রামী মনোভাবের কারণে চক্রে খুব সহজেই তারা এ চক্রে ঢুকে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক, সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, এক শ্রেণির অপরাধীরা রয়েছে যারা অভাব পূরণের জন্য চুরি, ছিনতাই এবং অজ্ঞান করার মতো অপরাধ করে করে। তারা নিত্যদিনের অভাব পূরণের জন্য এসব কাজ ছাড়া আর কিছু পায় না। উপকূলের মানুষের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা থাকে। তাই হয়তো তারা এসব অপরাধে জড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত এসব জেলাভিত্তিক জরিপ করে এ ধরনের মানুষদের চিহ্নিত করে করে তাদের দৈনন্দিন অভাব পূরণ করা। এছাড়া তাদের অভাবপূরণে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

যে কারণে বেশিরভাগ মানুষই মারা যায়

অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে যেসব জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয় সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, অধিকাংশরাই অজ্ঞানের জন্য ‘এপিট্রা’ নামে এক ধরনের তরল ওষুধ এবং নক্টিন ট্যাবলেট ব্যবহার করে। শরবত কিংবা চায়ের সঙ্গে মেশানো হয় এপিট্রা; আর কলা, খেজুরসহ অন্যান্য খাবারের ভেতরে ঢোকানো হয় নক্টিন।

এছাড়া পানি, ডাবের পানি বা অন্যান্য তরল খাবারের সঙ্গে এক ফোটা এপিট্রা মেশালে ৫ মিনিটের ১২ ঘণ্টার জন্য ঘুমে চলে আসে। অতিরিক্ত সেবনে শারীরিক দুর্বল ব্যক্তিরা মারাও যেতে পারে বলে জানান চিকিৎসকেরা।

এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাদিয়া আরেফিন বলেন, ‘ওষুধ দুটি দুশ্চিন্তা বা প্যানিক অ্যাটাকের বিপরীতে কাজ করে। দুশ্চিন্তাগ্রস্তরা এটি খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন। এছাড়া রক্তচাপের (প্রেশারের) রোগীরা ঘুমানোর জন্য খেয়ে থাকেন।

এসব ওষুধ খেলে ১০ মিনিটের মধ্যে ১০-১২ ঘণ্টার জন্য ঘুম হয়। তবে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ট্যাবলেট ও তরল ওষুধ পরিমাণে বেশি ব্যবহার করে। মাত্রাতিরিক্ত সেবনের ফলে আক্রান্তদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। তুলনামূলক দুর্বল ব্যক্তিরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মারাও যায়।’

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পেশাল ফিজিশিয়ান ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আকরাম হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এসব ওষুধ অতিমাত্রায় দেয়ার কারণে মানুষের কিডনি, লিভার ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। ৬ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হলে তারা সেরে উঠতে পারে। কিন্তু ৬ ঘণ্টা পর হাসপাতালে আনা হলে মৃত্যুঝুঁকি থেকে যায়।’

নক্টিন ও এপিট্রা দুটি ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের আশপাশের প্রায় অধিকাংশ ফার্মেসির কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ভয়াবহ সব ঘুমের ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয় তাদের কাছে।

এ বিষয়ে ডিবির কয়েকজন সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা একাধিকবার ছদ্মবেশে মিটফোর্ডের দোকানগুলোতে গিয়েছি। তারা আমাদের কাছে এসব ওষুধ বিক্রি করে না। শুধুমাত্র পরিচিত অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের কাছেই বিক্রি করে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, গত একবছরে এই চক্রের খপ্পরে পড়ে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৩৫০ জন। ঢামেক প্রশাসন জানিয়েছে, অনেকে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু তারা ভাবে হয়তো সে গরমে মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। পরে আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন তারা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিল। এ কারণে সুনির্দিষ্টভাবে সংখ্যা বলা যায় না।

বাংলাদেশ থেকে অজ্ঞান পার্টির ‘উৎপাত’ বন্ধে গত বুধবার (২৪ এপ্রিল) এক ভিডিও কনফারেন্সে সারাদেশের পুলিশের ইউনিট প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রমজান মাসে এই চক্রের সদস্য সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। প্রতিবছর আমরা তাদের গ্রেফতার করি। তারা রমজান ও ঈদের আগে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে আবারও একই কাজ শুরু করে। তারা বিভিন্ন স্থানে নানা কৌশলে মানুষকে ওষুধের খাইয়ে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নেয়।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের গ্রেফতার করে তাদের তৎপরতা বন্ধে মহানগর গোয়েন্দাকে (ডিবি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাস-রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেখানে লোকসমাগম বেশি সেখানে তাদের নজরদারি থাকবে।’

অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে বাঁচতে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি এই অপরাধ বন্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। অপরিচিত কারও দেয়া কিছু খাওয়া যাবে না।’

এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্নস্থানে লিফলেট, হ্যান্ডবিল বিতরণের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এই বিভাগের পোস্ট

Back to top button
Close