জানা অজানা

অমীমাংসিত ১২টি অবিশ্বাস্য রহস্য, যা আপনাকে বাকরুদ্ধ করে দিবে!

জাগতিক অনেক কিছুই আছে যা আমাদের প্রচলিত জ্ঞান বিজ্ঞানে ব্যাখ্যা করা কঠিন

আপনি কি ভাবতে পারেন, আমদের এই পৃথিবীতেই মাটির নিচে বিশাল এক সমুদ্র আছে যার আয়তন আমাদের অন্যান্য সকল সমুদ্রের আয়তনের চেয়ে বিশাল। কিংবা কখনও শুনেছেন জমে বরফ হয়ে যাওয়া মানুষ বেঁচে উঠেছে। জাগতিক অনেক কিছুই আছে যা আমাদের প্রচলিত জ্ঞান বিজ্ঞানে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বহুদিন ধরে চেষ্টা করেও বাঘা বাঘা গবেষক ও বিজ্ঞানী অনেক রহস্যের জাল ভেদ করতে পারেনি।

আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো এমন ১২ টি অমীমাংসিত রহস্য যার কুল কিনারা এখনও কোন বিজ্ঞানী করতে পারেনি। তাহলে চলুন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই এবং দেখি রহস্যের জাল ভেদ করা যায় কিনা।

বৃষ্টি মানব: ঘটনাটি ১৯৮৩ সালে পেনসিলভানিয়ার ডন ডেকারকে নিয়ে। এই সময় ডন ডেকারের দাদা মারা যায়। দাদা মারা যাওয়ার ফলে ডন ডেকার খুব বিমর্ষ হয়ে পরেন। ঠিক ওই মুহূর্তে ঘরের সিলিং থেকে ফোটায় ফোটায় পানি পড়তে শুরু করে। সবাই খুব হতভম্ব হয়ে যায় এবং ডেকারকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে যায়। কিন্তু সেখানেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

মাটির নিচের সাগর: সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ভূপৃষ্ঠের ৬৬০ কিলোমিটার গভীরে এক বিশাল পানির মজুদের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে, পানির এই আকরটি প্রায় ২.৭ বিলিয়ন বছর পুরনো এবং এর আয়তন পৃথিবীর সকল সাগরের আয়তনের থেকেও বৃহৎ।

ভবিষ্যৎ মানব: ২০০৩ সালে এফবিআই শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। ব্যক্তিটির নাম আন্ড্রু কার্লসিন। তিনি মাত্র ৮০০ ডলার শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে ১২৬ টি ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আন্ড্রু বলেন তিনি ভবিষ্যৎ থেকে শেয়ার বাজারের এসব তথ্য পেয়েছেন এবং ২২৫৬ সাল থেকে টাইম মেশিনে করে এই সময়ে এসেছেন। পরবর্তীতে কেউ একজন তার জামানতের জন্যে ১ মিলিয়ন ডলার দেয়। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফুটন্ত জলের নদী: ভূতাত্ত্বিক আন্ড্রেজ রুজো ছোট বেলায় তার দাদির কাছে এক ফুটন্ত পানির নদীর কথা শুনতেন, যা শত্রুদের তার গরম পানিতে পুড়িয়ে মারত। ২০১১ সালে রুজো নদীটি খুঁজে বের করেন যার পানির তাপমাত্রা প্রায় ৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নদীটি নিকটস্থ আগ্নেয়গিরি থেকে মাত্র ৭০০ কিঃ মিঃ দূরে অবস্থিত।

ইউোনাগুনির ডুবন্ত স্তম্ভ: জাপানের ইউোনাগুনি দ্বীপের সমুদ্রের জলের নিচে চাপা পড়ে আছে বহু প্রাচীন কালের স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ। ১৯৮৬ সালে জাপানের কিছু ডাইভার প্রায় পাঁচতলা সমান উঁচু এসব মূর্তি স্থাপত্য ও মানুষের বসবাসের বিভিন্ন নিদর্শন খুঁজে পায়।

ব্রালরনে জাদুঘরের রহস্যজনক ছবি: কানাডার ব্রালরনে জাদুঘরে ১৯৪১ সালের একটি ছবি রয়েছে যা সেই সময় গোল্ড ব্রিজ উদ্বোধনের সময় তোলা হয়। ছবিতে এক ব্যক্তিকে দেখা যায় বর্তমান হাল ফ্যাশানের পোশাক পরে থাকতে। যেগুলোর সেসময় কোন প্রচলন ছিল না।

আমাজন বনের অদ্ভুতদর্শন রেখাচিত্র: আমাজন বনের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম অদ্ভুতদর্শন রেখাচিত্র দেখতে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত এসব রেখাচিত্র সৃষ্টির কারন বের করতে পারেনি।

ভূমিকম্পের সাথে আকাশে আলোর ঝলকানি: ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রায় ৬৫ বার ভূমিকম্পের সময় আকাশে আলোর ঝলকানি দেখার ঘটনা রেকর্ড করা হয়। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে পারেনি।

ঠাণ্ডায় জমে পাথর হয়ে গিয়েও বেঁচে যাওয়া বালিকা: ১৯৮০ সালের ডিসেম্বর মাসে জিন হিলিয়ারড নামে এক বালিকা বাড়ীর বাইরে বেরাতে গিয়ে অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় জ্ঞান হারায়। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর তাকে খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু ততক্ষণে সে জমে বরফ হয়ে গেছে। ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। কিন্তু ধীরে ধীরে তার দেহ উষ্ণ হলে তার পা নড়ে উঠে। তিনদিন পর সে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে শুরু করে।

ভৌতিক জাহাজ: ক্যারল এ ডেয়ারিং একটি ভৌতিক জাহাজের নাম। ১৯২১ সালে ডেক ভর্তি খাবার, লগবুকসহ জনশূন্য অবস্থায় জাহাজটি খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনেমাও তৈরি করা হয়েছে।

বিমিনি রোড: ১৯৩০ সালে এক আমেরিকান দাবি করে হারিয়ে যাওয়া আটলান্টা নগরী বিমিনিতে রয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালের সেপ্টেম্বারে দক্ষিন বিমিনির সমুদ্রের কূল ঘেঁষে প্রায় ৭০০ মিটার লম্বা পাথরের তৈরি একটা রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায়। অনেকেই বিশ্বাস করে এগুলোই প্রাচীন আটলান্টার অবশিষ্ট ধ্বংসাবশেষ।

নাচুনে প্লেগ: ১৫১৮ খ্রিষ্টাব্দে স্টারবারগে এই ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০০ মানুষ হুট করে মাতালের মত নাচতে শুরু করে এবং কিছু সপ্তাহের মধ্যেই প্রত্যেকে হার্ট অ্যাটাক কিংবা ষ্টোকের ফলে একে একে মারা যায়। বিজ্ঞানীরা এই রোগের কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এই বিভাগের পোস্ট

Back to top button
Close