রাশিয়ার গুপ্তচর তিমি আটক!

বিশ্বে সামরিক প্রভাব বাড়াতে শক্তিধর দেশগুলো নিয়োগ দিয়ে থাকে গুপ্তচর। শত্রুপক্ষের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে গুপ্তচরেরা তা তুলে দেন নিজ গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। নরওয়ের উত্তরাঞ্চলীয় কাউন্টি ফিনমার্ক উপকুলে হঠাৎ আকস্মিকভাবে বেলুগা তিমিকে দেখতে পায় জেলেরা। তিমিকে দেখে তাড়া করার এক পর্যায়ে আটক করতে সক্ষম হয় তারা। জানা গেছে তিমিটিকে রুশ সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নরওয়ের উপকূলে আটক হয়েছে রাশিয়ার গুপ্তচর তিমিটি। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়ার নৌবাহিনীর প্রশিক্ষিত তিমিটি উত্তর মহাসাগরে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে নিয়োজিত ছিল। এ তথ্য নিশ্চিত করে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন।

নরওয়ের ফিনমার্ক উপকূলে আটক হওয়া তিমিটির বর্ণনা দেন জোয়ার হেসেন এক জেলে, তিনি বলেন, তিমিটি বিশেষভাবে সাজানো ছিল তার গলায় একটি বর্মও পড়ানো ছিল এবং বর্মটির সঙ্গে লাগানো ছিল একটি ক্যামেরা।

এদিকে নরওয়ের ফিশারি বিভাগের সমুদ্র বিশেষজ্ঞ জর্জেন রী উইগ বলেন, তিমিটিকে রুশ সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এবং এটি জেলেদের কাছে তার গলার বর্মটি খোলার জন্য সাহায্য চাইতেই হয়তো উপকূলে ভিড়েছিলো।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্মটি বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এর উভয় পার্শ্বে ক্যামেরা লাগানো ছিলো। আমরা বিশ্বাস করি, তিমিটি রাশিয়ার মারমানস্ক থেকে এসেছে এবং এটি রুশ নৌবাহিনীর দ্বারা প্রশিক্ষিত হয়েছে। রুশ নৌবাহিনী আগে এই বেলুগা তিমিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এর মাধ্যমে সামরিক অভিযান পরিচালনা, ঘাঁটি পাহারা, ডুবুরিদের সহায়তা ও হারানো জিনিস খুঁজে পেতে ব্যবহার করতো।’

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্সের গুপ্তচর জেমস বন্ডের মতো দুর্ধর্ষ না হলেও এই তিমি বেশ চিন্তার ভাঁজই ফেলেছে নরওয়ের কপালে। উত্তর মহাসাগর এলাকায় বরেন্টস সাগরের জলসীমা নিয়ে একসময় রাশিয়া ও নরওয়ের মধ্যে বিরোধ ছিল।

গুপ্তচর তিমিটি বেলুগা প্রজাতির। উত্তর মহাসাগরের ইংগোয়া দ্বীপে নরওয়ের একজন জেলে তিমিটির গায়ে যন্ত্র লাগানো দেখে একে আটক করে। পরে ওই জেলে তিমিটির গা থেকে যন্ত্রটি খুলে ফেলতে সক্ষম হন।

নরওয়ের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী অধ্যাপক এডান রিকার্টসন বলেন, বেলুগা ডলফিনের মতোই বুদ্ধিমান প্রাণী। কুকুরের মতোই তাদের প্রশিক্ষিত করে তোলা যায়। তিমিটির গায়ে পাওয়া যন্ত্রটি গোপ্রোজাতীয় ক্ষুদ্র ক্যামেরা স্থাপনের জন্য উপযোগী। যন্ত্রটির গায়ের লেবেলে সেন্ট পিটার্সবুর্গ লেখা থেকে এটি রাশিয়ার বলেই মনে করছেন রিকার্টসন। তবে তিমিটির গায়ে এ সময় কোনো ক্যামেরা লাগানো ছিল না।

যে এলাকায় তিমিটি ধরা পড়েছে, তার কাছেই রাশিয়ার একটি নৌঘাঁটি রয়েছে। থ্রোমসো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিকার্টসন বলেন, তার রুশ সহকর্মীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন, রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা বেলুগা তিমির গায়ে ক্যামেরা লাগিয়ে কোনো পরীক্ষা এই মুহূর্তে চালাচ্ছেন না। তবে রুশ নৌবাহিনী বেলুগা তিমি প্রশিক্ষণ দিয়ে সামরিক কাজে নিয়োজিত করছে বলে এক রুশ সহকর্মী তাঁকে তথ্য দিয়েছেন বলে জানান রিকার্টসন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালেও মারমানস্ক সামুদ্রিক জীব গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেলুগা তিমি, ডলফিনকে সামরিক ভূমিকা রাখার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছিলো বলে সাইবেরিয়া টাইমস জানায়। তবে গত সপ্তাহে আটক করা তিমিটির গলা থেকে বর্মটি অপসারণ করে তা আবারো মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এই বিভাগের পোস্ট

Back to top button
Close