কাতারে ইমামতি পেশার বড় অংশই বাংলাদেশি

মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় মুসলিম দেশ কাতারে মুয়াজ্জিন ও ইমামদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রায় দুই দশক ধরে রাজধানী দোহাসহ কাতারের বিভিন্ন শহরের মসজিদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবেরা।

১৯৯০ সালে প্রথম সরকারিভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিন নেওয়া শুরু করে কাতার। কাতারি নাগরিকদের কাছে নিজ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ তুলে ধরার আহ্বান জানালেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

সম্প্রতি কাতার ওয়াকফ ও ধর্ম মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে জানা গেছে, ২ হাজার ৪শ’র মতো মসজিদে প্রায় ১ হাজার ৩শ’ বাংলাদেশি ইমাম ও মোয়াজ্জেম বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন কাতারে।

কাতারিদের কাছে মুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি ইমাম-মোয়াজ্জেমরা বেশ সম্মানিত ব্যক্তি। শুদ্ধ উচ্চারণে কোরআন তেলওয়াতের কারণে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ছে বলে মনে করেন প্রবাসী ইমামরা।

বেতনের বিষয়ে তারা বলেন, ‘আমাদের বেতনের বিষয়ে তারা খেয়াল রাখছেন। কাতারের নাগরিকদের মতই আমাদের সম্মান করা হয়। এখানকার অধিকাংশ মসজিদের মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশি ভায়েরা ইমাম-মোয়াজ্জেম। আমাদের প্রতি তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি’

ইমামদের কাতারি নাগরিকদের কাছে নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন, কমিউনিটির নেতারা।

এদিকে কমিউনিটি নেতা আলমগীর হোসেন আলী বলেন, আমাদের কোন খারাপ কাজের জন্যে কাতারের কাছে সমালোচিত না হয়। আমাদের প্রতিটি কাজ প্রতিটা বলা চলাফেরা যাতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশিদের ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়টি সেদেশের নাগরিকদের কাছে তুলে ধরা ইমাম মোয়াজ্জেমদের দায়িত্ব বলে মনে করেন, কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, ‘সব ধর্ম মিলেমিশে আমরা যেমন বাস করছি তেমন তাদের বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে এই বার্তা কাতারের বিভিন্ন জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে এতে আমাদের ইমেজ আরো বাড়বে বলে আমি মনে করি।’

শুধু ইমাম-মুয়াজ্জিন নয়, কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশি ইমামরা। মেধা, আচরণ, মনোমুগ্ধকর তিলাওয়াত, শুদ্ধ আরবি ও অন্যান্য সাফল্যের কারণে বাংলাদেশি ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

কাতারে কর্মরত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ফ্রি বাসা, বিনা মূল্যে পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। সন্তানদের ফ্রি পড়ালেখার পাশাপাশি আরও অন্যান্য সুযোগ ভোগ করেন তাঁরা। এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা অন্য কোনো দেশে বিরল।

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এই বিভাগের পোস্ট

Back to top button
Close