প্রবাসীদের জমাজমি দেখভাল করবে সমবায় সমিতি

গ্রাম ছেড়ে যারা শহরে কিংবা বিদেশে প্রবাসী হয়ে বসবাস করছেন, তাদের গ্রামের জমাজমি দেখভাল করা নিয়ে আর কোনো ভাবনার দরকার নেই। তাদের জমাজমি দেখাশোনা করবে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে গড়ে তোলা সমবায় সমিতিগুলো।

মালিকানা ঠিক রেখে জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখবে সমিতি। বৃক্ষরোপণ, ফলজ বৃক্ষ, গবাদি পশু পালন, মৎস্য চাষসহ যাবতীয় কাজে লাগানো হবে পড়ে থাকা জমি। উৎপাদিত ফসল তিন ভাগে ভাগ করা হবে। এক ভাগ পাবেন ভূমির মালিক, দুই ভাগ পাবেন সমিতির যেসব সদস্য চাষাবাদ করবেন তারা।

উল্লেখিত লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, যা পল্লী অঞ্চলে অনিবাসী ভূমি মালিকদের ভূমি ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের সমিতির মাধ্যমে ব্যবহার ও সংরক্ষণ নীতিমালা হিসেবে অভিহিত হবে। এরই মধ্যে নীতিমালাটি প্রস্তুত করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে শিক্ষা, চাকরি, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, উচ্চ শিক্ষা, ব্যবসা এবং অন্যান্য কারণে গ্রাম থেকে এসে অনেক মানুষ শহরে বসবাস করছে।

এ প্রক্রিয়াটি বিশ্বব্যাপী আরবানাইজেশন বা নগরায়ন নামে পরিচিত। দেশ যত উন্নত হচ্ছে, নগরায়ন তত বাড়ছে। বাংলাদেশেও একই প্রক্রিয়ায় গ্রামের অনেক মানুষ শহরে কিংবা বিদেশে বসবাস করছে। শহর কিংবা বিদেশে বসবাসরত এসব মানুষের পল্লী অঞ্চলে জমাজমি, বসতবাড়ি এবং অন্যান্য শ্রেণির স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, যাকে অনিবাসী ভূমি মালিকের জমি বলা হয়। অনিবাসী ভূমি মালিক পল্লী অঞ্চলে বসবাস না করায় তার জমি বেদখল হচ্ছে। যথাযথভাবে জমিজমা সংরক্ষতি হচ্ছে না। বর্গাদারের ইচ্ছেমতো ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে জমির উপরিভাগ তথা টপ সয়েল।

নীতিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মো. জিয়াউল হক বলেন, নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছি। সবার মতামত নিয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, গেল সপ্তাহে আমার সঙ্গে কমার্শিয়াল ইম্পর্টেন্ট পার্সন (সিআইপি) দেখা করে অনিবাসী সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা চেয়েছেন। আমরা বলেছি, এনআরবি নামে একটি ওয়েবসাইট ওপেন করব।

সেখানে অনিবাসী সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ সাবমিট করা হবে। আমরা ওই অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করব। এক মাসের মধ্যে ওয়েবসাইটটি ওপেন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

মালিকের অনুপস্থিতিতে তার বিনা অনুমতিতে অনেক সময় মূল্যবান ওই জমির ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় স্থানীয় জনগণের সার্বজনীন ব্যবহারের জন্য।

এছাড়া জমির খাজনা নিয়মিত পরিশোধ করা হয় না। জরিপের সময় প্রকৃত মালিকের অনুপস্থিতিতে জমির সঠিকভাবে হালনাগাদ রেকর্ড করানো হয় না। অনেক সময় আপন ভাই, বোন, চাচা, ফুফুসহ আত্মীয়-স্বজনও প্রকৃত মালিকের জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিচ্ছেন। ফলে পরবর্তীতে ওই জমির মালিকানা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমাসহ নানাবিধ জটিলতা তৈরি হয়।

পরিস্থিতির শিকার হয়ে শহুরেবাসী ভূমি মালিক জমাজমি বিক্রি করে গ্রাম থেকে অনিচ্ছা সত্ত্বে সব বিক্রি করে দিয়ে বিদায় নিতে হয়। চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের আত্মীয়তার বন্ধন। ছিন্ন হয় সামাজিক যোগাযোগ।

ভূমি হচ্ছে বিনিয়োগের মাধ্যম, যার উৎপাদিত ফসল মানব সমাজের খাদ্যসহ বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির ও কারিগরি জ্ঞানের মাধ্যমে ভূমির উৎপাদন ক্রমাগত বাড়ছে।

বাংলাদেশের ইকোসিস্টেম অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশের কৃষি উৎপাদন, বৃক্ষরোপণ, ফল চাষ, গবাদিপশু পালনসহ নানাভাবে উৎপাদনের সুযোগ বেশি। পল্লী অঞ্চলের সব বসতবাড়িকে একটি আধুনিক খামারে রূপান্তরের জন্য সরকার ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

প্রকল্প শেষে এ কার্যক্রম চলমান রাখার লক্ষ্যে সরকার গঠন করেছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। বর্তমানে দেশের সব উপজেলায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা রয়েছে এবং প্রত্যেক গ্রামে একটি করে একটি বাড়ি একটি খামার সমিতি রয়েছে।

এসব সমিতির মাধ্যমে অনিবাসী মালিকের ভূমি ব্যবহার করলে উৎপাদন বাড়বে। ভূমি মালিক ভূমি সংরক্ষণে নিশ্চিত থাকতে পারবেন। অনিবাসী ভূমি মালিকের সঙ্গে পল্লী অঞ্চলের নিকটজন ও সমিতির সদস্যদের সরাসরি যোগাযোগ থাকবে। অটুট থাকবে সমাজিক বন্ধন।

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এই বিভাগের পোস্ট

Back to top button
Close