নির্বাচনরাজনীতি

এবার ‘চমক’ মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচনে

মন্ত্রিসভার পর এবার মহিলা সংসদ সদস্য মনোনয়নে বড় চমক আসছে। দশম জাতীয় সংসদের অধিকাংশ মহিলা সংসদ সদস্যই এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এবার আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের মহিলা সংসদ সদস্য হবেন ৪৪ জন। দশম জাতীয় সংসদের চেয়ে একজন বেশি। গত সংসদে আওয়ামী লীগ ১৪ দলের জাসদকে একটি এবং ওয়ার্কাস পার্টিকে একটি করে মহিলা আসন দিয়ে বাকি আসনগেুলো নিজেদের জন্য রেখেছিল।

৪১ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে মহিলা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার ৪২ জন আওয়ামী লীগের এবং ২ জন শরিকদের মধ্যে থেকে দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। গতবার মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা প্রবীনদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল।

এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের তরুনদের প্রাধান্য দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে,‘ এবার আওয়ামী লীগের মহিলা আসনগুলো তারকা সমৃদ্ধ হতে পারে। তাছাড়া প্রাক্তন ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং দলীয় কাজে সক্রিয়দের প্রাধান্য দেয়া হবে একটি সূত্র জানিয়েছে।

বিগত সংসদের মধ্যে থেকে অধিকাংশ বাদ পরলেও কয়েকজনের থাকাটা নিশ্চিত। এদের মধ্যে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম (মহিলা আসন -১৬)। শহীদ মেজর জেনারেল (অব:) খালেদ মোশারফের মেয়ে বেগম মাহজাবীন খালেদ (মহিলা আসন-১৮), কাজী জাফর উল্লাহর

স্ত্রী বেগম নীলুফার জাফর উল্লাহ (মহিলা আসন- ২৫), ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি (মহিলা আসন-৩০) আবার মনোনয়ন পেতে পারেন বলে আভাষ পাওয়া গেছে। বেশ ক’জন তারকা এবার মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদের মধ্যে কয়েকজনের মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেন, শমী কায়সার। তিনি ফেনীর একটি আসন থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাননি।

শমী ছাড়াও অভিনয় এবং নাট্যাঙ্গনের আরো কয়েকজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মারুফা আক্তার পপি মহিলা আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন।

এছাড়াও কার্যনির্বাহী কমিটির আরো দু-একজনকে মহিলা সংসদ সদস্য করার জন্য বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, মহিলা সংসদ সদস্য পদে কয়েকজন নারী সাবেক আমলাকেও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এবার মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হবে।

প্রথমত; দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার এবং দলীয় অনুগত্য, দ্বিতীয়ত; তাঁর যোগ্যতা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তৃতীয়ত; বঞ্চিত এলাকা। যেসব এলাকা থেকে গতবার নারী সংসদ সদস্য হয়নি, সেইসব এলাকাকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবশ্য বলেছেন, ‘মহিলা এমপিদের বিষয়ে এখনও আমাদের দলে আলোচনা হয়নি। নির্বাচন কমিশন তফসিল দিলে মনোনয়ন বোর্ড নিয়ে কাজ শুরু করবে।‘ তবে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এনিয়ে হোম ওয়ার্ক শুরু করেছেন।’

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এই বিভাগের পোস্ট

Back to top button
Close