রাজনীতি

‘আল্লামা শফির বক্তব্য ঠিক নয়, ইসলামে কাউকে শিক্ষায় নিষেধ করা হয়নি’

মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পড়াতে এবং পড়ালেও সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য গতকাল এক মাহফিলে হেফাজত ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উপস্থিত মুসল্লীদের ওয়াদা করানোর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেছেন, ‘আল্লামা শফির দেয়া বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে ইসলাম বিরুদ্ধ কথা। ইসলাম সকল নারী পুরুষের ওপর জ্ঞান শিক্ষা ফরজ করেছে। সেখানে বলেনি যে কাউকে ফোর পর্যন্ত বা কাউকে সিক্স পর্যন্ত পড়তে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশের জন্য যদি কোন ছেলে মেয়ের জীবন, চরিত্র নষ্ট হয়, সেগুলো হলো পরিবেশের কারণে। কিন্তু শিক্ষা করতে পারবে না এ কথাটা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরুদ্ধ কথা। ইসলামতো প্রত্যেক নারী পুরুষকে জ্ঞান শিক্ষা ফরজ করেছে, যেটি নবীজী বলেছেন। কুরআনের প্রথম বাণীই ছিল ‘পড়’।

অধ্যাপক আব্দুর রশীদ বলেন, ‘আমাদেরকে পরিবেশ দিতে হবে। উনি যে কথাগুলো বললেন আমার মনে হয়েছে মাথা ব্যাথা হলে মাথাটা কেটে ফেলতে হবে।

হ্যাঁ, আমাদের সমাজে ঘটছে দুই-একটা ঘটনা ঘটছে। তার সংখ্যা হয়তোবা ক্রমান্বয়ে বাড়ছেও। আমার প্রশ্ন আল্লামা শফিরা এতো বড় জ্ঞানী গুণীরা এ সমাজে থাকতে এ সমাজে এসব হবে কেন?

রাসূলতো বলেছেন, আমার প্রচারিত ইসলাম দ্বারা একজন যুবতী নারী দুনিয়ার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু তার সম্পদ ও সম্ভ্রম কোনটারই আশংকা থাকবে না এবং এটাই রাসূলের জীবন থেকে শুরু করে চার’শ বছর পর্যন্ত ইসলামী বিশে^ নিশ্চিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘সমাজে এখন যে সমস্যা হচ্ছে এর জন্যতো আমরাই দায়ী। আমরাতো এদেরকে (নারী) সেভ করতে পারছি না। যে সমাজে আল্লাম শফিরা আছেন, সে সমাজে এমনটা কেন হবে যে একটা মেয়ের হাত ধরে টান দিবে, অসম্মান করবে।

এ জন্য বলছি যে পরিবেশের কারণে আমরা তাদের শিক্ষা বন্ধ করে দিতে পারিনা। কারণ মাথা ব্যাথা হলে আমরা মাথাটাকে কেটে ফেলতে পারি না, মাথায় ব্যাথার ঔষধ দিতে হয়।’

এই ইসলামিক স্কলারের মতে, আল্লামা শফির বক্তব্য কোনভাবেই ঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের পড়াশোনা ইসলামিক শিক্ষায় কাউকে নিষেধ করেনি। সবাইকে শিখতে হবে। শিখলেই কেবল দ্বীন-ধর্ম শিখা যাবে।

মানুষ সুন্দর হবে, সামাজিক হবে। আল্লাহকে আল্লাহর রাসূলকে জানতে পারবে। কিন্তু পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। যে পরিবেশ এর কারণে আমাদের মেয়েরা লাঞ্ছিত হয়, নির্যাতিত হয়, নিরাপত্তা বিঘিœত না হয় সে পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে।’

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজস্ব সম্পদের বিবরণ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। আজ দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সততার পুরস্কার হিসেবে আমাকে মন্ত্রী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে আমি যে কোনো মূল্যে দুর্নীতিমুক্ত করবো।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এ জন্য আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজস্ব সম্পদের বিবরণ জমা দিতে এখন আমি আপনাদের মাধ্যমে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিচ্ছি। মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর তাদের সবাইকে লিখিতভাবে নির্দেশনা দেয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একদম ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেবো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যদিয়ে আমি এই মন্ত্রণালয়কে শীর্ষ ৫ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়ে আসবো।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ,

সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, নির্বাহী সদস্য শহীদ উল আলম, ম. শামসুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক পঙ্কজ কুমার দস্তিদার, তপন চক্রবর্তী, মোস্তাক আহমেদ, এম নাসিরুল হক, এজাজ মাহমুদ, শফিউল আলম, একরামুল হক বুলবুলসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Back to top button