রাজনীতি

জিয়ার নাম কালো কালিতে মুছে দিলো ছাত্রলীগ

জিয়া শব্দটি কালো রঙ দিয়ে মুছে দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক থেকে জিয়ার নাম মুছে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কয়েক’শ নেতাকর্মী নগরের কাজির দেউড়ি এলাকার জাদুঘরে গিয়ে জিয়ার নাম মুছে দেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমেদের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধাও উপস্থিত ছিলেন।

এরপর ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ছাত্র ফোরাম, চট্টগ্রাম মহানগর’ এর ব্যানারে নগরের কাজীর দেউড়ি শিশু পার্কের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।

এর আগে সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে একই দাবি জানিয়েছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। জাদুঘরটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে।

মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ পাকিস্তানি সেনারা অনেক নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে এই ভবনে রেখে নির্যাতন করেছিল।

এই ভবনের সঙ্গে মুক্তিকামী বাঙালির স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জনের স্মৃতি জড়িত। এই ভবন কখনো জিয়াউর রহমানের মতো একজন বিতর্কিত মানুষের নামে হতে পারে না।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আব্দুর রহিম শামীমের সভাপতিত্বে এবং নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাহুল দাশের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস ও হেলাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত সিংহ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরওয়ার আলম মনি, নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি একরামুল হক রাসেল ও কার্যকরী সদস্য কামরুল হুদা পাভেল।

অন্যদিকে এভাবে হুট করে এসে নামফলকে কালো রঙ লেপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘এটি সরকারি স্থাপনা।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। নাম পরিবর্তন করতে চাইলে সরকার করবে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানাবেন। একটি সরকারি স্থাপনায় এভাবে অতর্কিত এসে নামফলকে কালো রঙ লেপন করে দেওয়া কতোটা যৌক্তিক। এটি যারা করেছেন তাদের অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ড বলে মনে করছি আমরা।’

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Back to top button