সাংবাদিকদের চোর সন্দেহে তল্লাশি শেষে শমী কায়সার ক্ষমা চাইলেন

'সাংবাদিকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, যা অনিচ্ছাকৃত'

প্রেসক্লাবে মোবাইল চুরির ঘটনায় সাংবাদিকদের বিড়ম্বনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন অভিনেত্রী শমী কায়সার। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ বলেছেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, যা অনিচ্ছাকৃত।

তিনি আরও বলেন, আসলে মুঠোফোন আমাদের সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে সেখানে। ফোন দুইটি হারিয়ে সত্যিই আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা চোর শনাক্ত করে ফেলেছি, ফোন খুব দ্রুত উদ্ধার হবে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান অতিথি আসার আগেই অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে ফেলেন আয়োজকেরা।

এরআগে নিজের দুটি স্মার্টফোন চুরি যাওয়ায় প্রায় অর্ধশত সংবাদকর্মীকে আধঘণ্টারও বেশি আটকে রেখেছিলেন অভিনেত্রী ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই- ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রায় অর্ধশত ফটো ও ভিডিও ক্যামেরা এবং শতাধিক মানুষের সামনে চুরি হয় শমী কায়সারের স্মার্টফোন দু’টি। এমনকি তার নিরাপত্তাকর্মী সংবাদকর্মীদের দেহ তল্লাশিও করেন। তল্লাশিসাপেক্ষে কেউ কেউ বের হতে চাইলে চোরও বলে ওঠেন সেই নিরাপত্তাকর্মী, এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সংবাদকর্মীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানস্থলে।

ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটন বিষয়ক সাইট ‘বিন্দু ৩৬৫’র নামের একটি ট্যুরিজম কোম্পানির যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠান চলছিল। প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তখনও উপস্থিত হননি।

বিশেষ অতিথি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ মাত্রই বক্তব্য শেষ করে বেরিয়ে গেছেন। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা জয়া আহসান, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সারের উপস্থিতিতে চলছিল কেক কাটার আয়োজন।

উদ্বোধনকালে বক্তব্য দেন শমী। বক্তব্য শেষ করে কেক কাটার সময়ই হঠাৎ করে তিনি জানান, তার স্মার্টফোন দু’টি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফোন দু’টিতে কল দিয়ে তখনও সচল পাচ্ছিলেন তিনি। ফোন হারানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শমী কায়সার।

এসময় গোটা মিলনায়তনে হৈ হট্টগোল তৈরি হয়। মিলনায়তনে উপস্থিত সবাইকে তল্লাশি চালানোর উদ্যোগ নিলে উপস্থিত অনেকেই তার প্রতিবাদ জানান। এতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ শমী কায়সার বলেন, মিলনায়তনে উপস্থিত প্রত্যেকের পকেটে তল্লাশি চালিয়ে হলেও ফোন দুইটি খুঁজে বের করা হবে।

শমী কায়সারের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ওঠেন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্যরা। এসময় শমী কায়সারের সঙ্গে তাদের কয়েকজনের বাদানুবাদও হয়। পরে আয়োজন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ অন্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এসময় মিলনায়তনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফোন চোর শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সিসিটিভি ও উপস্থিত টিভি ক্যামেরাগুলোর ফুটেজে দেখা যায়, কেক কাটার সময় কেকের পাশেই থাকা শমী কায়সারের ফোন দুইটি চুরি করে নেয় সাদা টি-শার্ট পরিহিত এক তরুণ, ভিডিওতে তার মুখ দেখা যায়নি। ‘বিন্দু ৩৬৫’ প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা অনুষ্ঠানে ওই টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চেহারা দেখা না যাওয়ায় তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না আদৌ ওই তরুণ তাদের স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন কি না।

ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী স্মার্টফোন দুটি নিয়ে গেছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন জয়া আহসান ও মাসুদা ভাট্টিও।

এ বিষয়ে ‘বিন্দু ৩৬৫’-এর উদ্যোক্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি ঘটনা। আমার আমন্ত্রণে অতিথিরা এসেছেন, আমি খুব বিব্রত। সাংবাদিক-অতিথি সবার কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি। আশা করি সবাই বিষয়টিকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। -পিপিবিডি

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এই বিভাগের পোস্ট

Back to top button
Close